সংবাদ শিরোনাম :

ফোর্বসের তালিকায় সেরা বিজ্ঞানী বাংলাদেশি পাভেল


অনলাইন ডেস্ক  || বরিশালট্রিবিউন.কম ||   প্রকাশিত:  নভেম্বর ২১, ২০১৮


নাম তার জি এম মাহমুদ আরিফ পাভেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করে স্কলারশিপ নিয়ে নিউইয়র্কের সেন্ট জন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি এবং মাস্টার্স করেছেন। তরুণ এই বিজ্ঞানী বর্তমানে পোস্ট ডক্টরাল অ্যাসোসিয়েট হিসেবে ‘স্ক্রিপস রিসার্চ’ এ কাজ করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। বসবাস করছেন ফ্লোরিডার জুপিটারে। তিনি গবেষণা করছেন, মানব শরীরের আয়ন চ্যানেল নিয়ে। আর এই গবেষণাকে স্বীকৃতি দিয়ে বিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস ২০১৯ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ৩০ বছরের নীচে সেরা ৩০ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান দিয়েছে।

গত ১৬ নভেম্বর ফোর্বস প্রকাশিত তালিকায় ‘থার্টি আন্ডার থার্টি’ ক্যাটাগরিতে দেখা যায়, ২৯ বছর বয়সী এই বায়োলজিস্টের নাম রয়েছে তালিকার প্রথমেই। মানবকল্যাণে গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিশেষ অবদান রাখায় গত ৮ বছর যাবত এই তালিকা প্রকাশ করে আসছে ফোর্বস।

শরীরের আয়ন ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মস্তিষ্কের নিউরণে কিছু মেমেব্রেন বাউন্ড প্রোটিন থাকে যাদেরকে বলে আয়ন চ্যানেল। এই আয়ন চ্যানেলগুলো অনেকটা নলের মতো মেমব্রেনের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। আয়নেরা এই চ্যানেলের মধ্যে দিয়ে মেমেব্রেন ভেতরে এবং বাইরে যাওয়া আসা করতে পারে। মানুষ চােখে যা দেখে, যা অনুভব করে- তা প্রোটিনের মাধ্যমে ইলেক্ট্রন তৈরি হয়ে একপর্যায়ে মস্তিষ্কে যায়। আর এই আয়ন চ্যানেলে সমস্যা তৈরি হলে কিডনিতেও সমস্যা হয়। মানব শরীরের এই আয়ন চ্যানেল কীভাবে কাজ করে-এটা ছিলো মাহমুদ আরিফ পাভেলের গবেষণার বিষয়। একে ‘ফান্ডার্মেন্টাল সেন্সরস অব লাইফ’ বলে অভিহিত করেন।

মঙ্গলবার কালের কন্ঠর পক্ষে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় জি এম মাহমুদ আরিফ পাভেলের সঙ্গে। ফ্লোরিডা থেকে তিনি জানান, বংশগত কিডনি রোগ বা অটোসমাল পলিসিসটিক কিডনি রোগের তেমন কোন চিকিৎসা নেই। তবে তারা ক্লিনিক্যাল স্টাডিতে দেখেছেন, চ্যানেলনটা যদি সঠিক প্রয়োগ করা হয়, তবে এই ধরণের কিডনি রোগ ভালো হবার সম্ভাবনা আছে। আর এটা সফল হলে চিকিৎসায় নবদিগন্তের সূচনা ঘটাতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

পাভেল জানান, অ্যানেশথিওলজিস্ট বা আবেদনবিদগণ সার্জারির প্রয়োজনে অ্যানেসথেশিয়া দিতে বা রোগীকে অজ্ঞান করতে বেশ কিছু ওষুধ প্রয়োগ করে থাকেন । তখন এই আয়ন চ্যানেলগুলো বিভিন্ন ড্রাগ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় বলে রোগীর কোন অনুভূতি থাকে না। তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু ওষুধ শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। আমরা গবেষণা করে জানতে চেষ্টা করছি কীভাবে কাজ করে এই আয়ন চ্যানেল।’ এনেসথেশিয়া নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন মলিকুলার বিজ্ঞানী ড. স্কট বি হ্যানসনের অধীনে।

এই সাফল্যে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জি এম মাহমুদ আরিফ বলেন, ‘আমাদের কাজটি একটা টিম ওয়ার্ক। আমি ছিলাম সেই টিমের প্রধান। তবে এটা আসলে তেমন কিছু না। শোকর আলহামদুলিল্লাহ! অনেক ভালো লেগেছে এটা দেখে যে, এই সংবাদে আমার বাবা-মা, আত্বীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধবরা বেশ খুশি হয়েছেন ।’ পাভেল বলেন, ‘রিসার্চ করতেই তার ভালো লাগে। ভবিষ্যতে ইচ্ছে আছে গবেষণায় ভালো কিছু করার।