২৪শে মে, ২০১৯ ইং, শুক্রবার

বর্ষপূর্তি বিশেষ: টাইগারদের পঞ্চপাণ্ডব

আপডেট: মে ১৪, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ছবিতে টাইগারদের পঞ্চপাণ্ডব।জাতীয় ক্রিকেট দলের বহু সাফল্যের ভিত নির্মিত তাদের হাতে। তারা হলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাস লিখতে বসলে এই পাঁচজনের নাম চলে আসবে অবধারিতভাবে। তারাই আমাদের ক্রিকেটের ‘পঞ্চপাণ্ডব’।

মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর হাত ধরে ক্রিকেট দলের ঘুরে দাঁড়ানোর সূচনা। একসময় বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের পরিচয় ছিল ‘মিনোজ’। বড় দলের সঙ্গে লড়াই করতে পারলেই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতো অনেকে। বেশিরভাগ ম্যাচে বাংলাদেশ হারতো বিনা লড়াইয়ে। সেসব অন্ধকার দিন পেরিয়ে আলোর পথে যাত্রা শুরু এই পাঁচ তারকার সৌজন্যে।

বাংলাদেশের ওয়ানডে রেকর্ডে পাঁচজনের একেবারে জয়জয়কার। ওয়ানডেতে টাইগারদের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান তামিমের, ৬ হাজার ৫৬১। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাকিবের রান ৫ হাজার ৬৬৭। সাকিবের চেয়ে ১৮০ রান কম নিয়ে তিনে মুশফিক। উইকেটকিপারের গ্লাভস হাতে তার ডিসমিসাল (২০৮) আবার সবচেয়ে বেশি।
৩ হাজার ৭০৩ রান নিয়ে চারে মাহমুদউল্লাহ। বোলিংয়ে ২৬৪ উইকেট নিয়ে সবার ওপরে মাশরাফি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাকিবের উইকেট ২৪৯। ২০০৬ সালে ওয়ানডে অভিষেক সাকিবের। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে আলো ছড়িয়ে বাংলাদেশকে অনেক ম্যাচে জিতিয়েছেন তিনি।

টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই দীর্ঘদিন অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকার কৃতিত্বও তার। বিশ্বকাপে তিনিই বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ক্রিকেটার। ২০০৭, ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলে ২১ ম্যাচে পাঁচটি হাফসেঞ্চুরিসহ করেছেন ৫৪০ রান, আর উইকেট নিয়েছেন ২৩টি।

তামিম বাংলাদেশের অধিকাংশ ব্যাটিং রেকর্ডের মালিক। দেশের অবিসংবাদিত সেরা ওপেনারও চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন ইংল্যান্ড-ওয়েলসে। গত বিশ্বকাপে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আউট হয়ে যান ৯৫ রানে। ক্রিকেটের সেরা আসরে ২১টি ম্যাচ খেলে তার মোট রান ৪৮৩, হাফসেঞ্চুরি তিনটি। দেশের ‘সবচেয়ে পরিশ্রমী’ ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত মুশফিকের নেতৃত্বে টেস্টে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কার মতো পরাশক্তিকে হারিয়েছে টাইগাররা। বিশ্বকাপেও তার ব্যাট উজ্জ্বল। সাকিব-তামিমের সমান ২১ ম্যাচ খেলে চারটি হাফসেঞ্চুরিসহ মুশফিক করেছেন ৫১০ রান।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম অংশগ্রহণ ১৯৯৯ সালে। ২০১১ পর্যন্ত চারটি বিশ্বকাপ খেলে ফেললেও কোনও ব্যাটসম্যানের নামের পাশে সেঞ্চুরি ছিল না। চার বছর আগে সেই আক্ষেপ দূর করেন মাহমুদউল্লাহ। তাও আবার একটি নয়, দুটি সেঞ্চুরির গর্বিত মালিক তিনি। অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ড-বধের ম্যাচে করেন ১০৩ রান। হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচে অপরাজিত ১২৮ রানের আরেকটি দুর্দান্ত ইনিংস। দু’টি বিশ্বকাপ খেলে ১০ ম্যাচে ৩৯৭ রান করা মাহমুদউল্লাহর ব্যাট লোয়ার মিডল অর্ডারে বাংলাদেশের জন্য বিরাট ভরসা।

পাঁচজনের মধ্যে সবার বড় মাশরাফি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে যার অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। ২০১৪ সালে ভীষণ দুঃসময়ে জাতীয় দলের নেতৃত্বভার পান তিনি। আফগানিস্তান-হংকংয়ের মতো দলের কাছে হেরে বাংলাদেশ তখন হতাশার চোরাবালিতে। কিন্তু মাশরাফির নেতৃত্বে টাইগারদের বদলে যেতে সময় লাগেনি। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তরণ, বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান-ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জয়, দুই বছর আগে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল আর গত সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলা অধিনায়ক মাশরাফির সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ।

বিশ্বকাপে ১৬ ম্যাচে ১৮ উইকেট শিকারের পাশাপাশি ১৬৫ রান করেছেন মাশরাফি। জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন ২০০৩ সালে। চার বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে (৪/৩৮) ভারতকে হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১১ বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি ইনজুরির কারণে। সাকিব-তামিম-মুশফিকের মতো মাশরাফি তাই চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন এবার। তবে তিন সতীর্থের সঙ্গে পার্থক্য, ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’-এর এটাই শেষ বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বদলে দেওয়ার নায়কের সামনে তাই বাড়তি চ্যালেঞ্জ।

অবশ্য এমন চ্যালেঞ্জ নিতে অভ্যস্ত মাশরাফি। বাকি চারজনও বহু চ্যালেঞ্জ জয় করে সাফল্য এনে দিয়েছেন দলকে। টাইগারদের সৌভাগ্য, পাঁচ দুর্দান্ত ক্রিকেটারের হাত ধরে তারা আজ সমীহ জাগানো দল।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
মে ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« এপ্রিল    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
Website Design and Developed By Engineer BD Network