২১শে মে, ২০১৯ ইং, মঙ্গলবার

ভাষা আন্দোলনে বরিশালের আবদান…

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

১৯৫২-সালের ২১-ফেব্রুয়ারি নিহত শহীদদের স্মরণে রাষ্ট্রভাষা দিবস পালিত হলেও, ভাষার জন্যে বাঙালির আন্দোলন-সংগ্রম শুরু হয় মূলত ১৯৪৮ সালে। তখন ২৫-ফেব্র“য়ারি গণপরিষদ সদস্য কুমিল্লার কৃতি সন্তান শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রথম গণপরিষদে উর্দুর সাথে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবির মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। এরপর ১০-মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ফজলুল হক হলে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। আর ঠিক সেই সময়ই মার্চের প্রথম সপ্তাহে শেখ মুজিবুর রহমান বরিশাল আসেন, তখন তিনি বিএম কলেজ ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে সভা করে ভাষা-আন্দোলনের জন্য ছাত্রদের সংগঠিত করেন।

 

সে-সময় এই আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা ছিলেন, কাজী বাহাউদ্দিন আহমেদ, শামসুল হক চৌধুরী, আবদুল লতিফ ও অন্যান্যরা। এরপর ১১-মার্চ ঢাকায় বাংলা ভাষার দাবিতে প্রদেশব্যাপী ধর্মঘট পালিত হয় এবং সেক্রেটারিয়েট ঘেরাও করা হয়। সেই দিনের ঘেরাও আন্দোলনের কর্মসূচি থেকে শেখ মুজিবুর রহমান, বরিশালের কাজী গোলাম মাহবুব, সর্দার ফজলুল করিম সহ আরও অনেকেই গ্রেফতার হন। ১৪-মার্চ ফের ধর্মঘট পালিত হয়, এবং সেদিন ছাত্রদের দাবি নিয়ে খাজা নাজিমউদ্দিনের সাথে মোহাম্মদ তোয়াহা, কামরুদ্দিন আহমদ ও বরিশালের আবদুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ ছাত্রনেতাদের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উপায়ন্তর না দেখে খাজা নাজিমউদ্দিন তখন ছাত্রদের বাংলাভাষা রক্ষার দাবি মেনে নেন, এবং গ্রেফতারকৃত ছাত্রদের ১৫ মার্চ কারাগার থেকে মুক্তি প্রদান করেন।

 

সারাদেশে এই আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে ১৯৪৮-সালের ১১-মার্চ ও ১৩-মার্চ বরিশালেও এখানকার সকল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়। তখন পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালীতেও সেখানকার বিদ্যালয়গুলোতে হরতাল পালিত হয়। তৎকালীন ছাত্রলীগ ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দরাই এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল। তখন এই আন্দোলন বাস্তবায়নের জন্য বরিশালে প্রথম সদর রোডে দিপালী সিনেমা (বর্তমান অভিরুচি) হলের সামনে এবং ফকিরবাড়ী রাস্তার পাশের জঙলা-কচুক্ষেতের মাঠে জনসভা হয়েছিল। সে-দিনের জনসভায় সভাপতিত্ব করেন, কাজী বাহাউদ্দীন আহমদ এবং সভায় শামসুল হক চৌধুরী, মুহাম্মদ আর্শেদ (ভোলা) মোখলেসুর রহমান, হাসান ইমাম চৌধুরী, এবিএম আশরাফ আলী খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন।

 

ওই দিন জনসভা শেষে সন্ধ্যায় পুলিশ সভায় নেতৃত্বদানকারী সকলকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায় এবং পরে তাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়। প্রকৃতপক্ষে বরিশাল জেলায় ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামের শুরুটা এভাবেই হয়েছিল। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় এবং ২৪-মার্চ কার্জন হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তন উৎসবের ভাষণে জিন্নাহ সাহেব উর্দুকেই পাকিস্তাানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে বলে ঘোষণা দিলে, এই ঘোষণার প্রতিবাদে ২৫-মার্চ বরিশালেও ছাত্র-যুবকরা বিক্ষোভ মিছিল, পথসভা এবং প্রতিবাদ সমাবেশ করে। ফলে ভাষা-আন্দোলনের আরম্ভ থেকেই এই আন্দোলন বরিশালে বেগবান ছিল। এবং তখন যারা এই আন্দোলনের সঙ্গে নিয়মিত সংযুক্ত ছিলেন, তাদের মধ্যে কাজী বাহাউদ্দীন আহমদ, অমিয় কুমার দাশগুপ্ত, আলী আশরাফ, রমিজুল হক চুন্নু, হাসান ইমাম চৌধুরী, মোশারেফ হোসেন নান্নু, মুহাম্মদ আর্শেদ, মোখলেসুর রহমান, নেহাল হোসেন, স্বদেশ বসু, শামসুল হক চৌধুরী এবং আরও অনেকেই তখন এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 

তখনকার পূর্ব বাংলার জাগ্রত ছাত্র-জনতা বাংলাভাষা আন্দোলনকে উজ্জিবিত রাখতে কাজ করে আসছিল, তখন তারা প্রতিবছর ১১-মার্চ ভাষা দিবস হিসেবে পালন করতো।

কিন্তু ১৯৫২-সালের ২৭-জানুয়ারি পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন ঢাকার এক জনসভায় যখন ঘোষণা দেন যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তখন বাংলার জনগণ নাজিমউদ্দীনের এই গণবিরোধী উক্তির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে, সারাদেশে আবার তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলে। তখন আওয়ামী মুসলিম লীগ, ছাত্রলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসমূহের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠন করা হয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।

 

২৮-সদস্যবিশিষ্ট সেই সংগ্রাম কমিটির সভাপতি হন, মওলানা আবদুর হামিদ খান ভাসানী এবং আহ্বায়ক করা হয় কাজী গোলাম মাহবুবকে। সে-দিনের সেই ২৮-সদস্যের কমিটিতে ৫-জনই ছিলেন বরিশালের সন্তান। এরা হলেন, গৌরনদীর কাজী গোলাম মাহবুব-আওয়ামী লীগ, গাভার মুজিবুল হক : ভিপি-সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, দৌলতখাঁর : শামসুল আলম, ভিপি-ফজলুল হক হল, পিরোজপুরের শামসুল হক চৌধুরী- ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পূর্ব বাংলা মুসলিম ছাত্রলীগ এবং আখতার উদ্দীন আহমদ-নিখিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ (শাহ গ্রুপের সদস্য)।

ফলে তখন, ঢাকা কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবানে ১৪-ফেব্রুয়ারি’৫২ বরিশালে ২৫ সদস্যবিশিষ্ট ‘বরিশাল রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়। তখনকার সেই রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক করা হয়েছিল, গলাচিপার ইচাদি গ্রামের-আবুল হাসেম (হাসেম ভাই) এবং সভাপতি নির্বাচিত করা হয়, আওয়ামী লীগের সভাপতি : আবদুল মালেক খান কে। পরবর্তিতে অবশ্য এই কমিটিকে ৮১-সদস্য বিশিষ্ট করে ‘বরিশাল জেলা রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়। সেই পরিষদের, আবদুল মালেক খান : সভাপতি, আবুল হাসেম : আহ্বায়ক করে, সদস্য হিসেবে আলী আশরাফ, আবদুল আজিজ তালুকদার, আবদুর রব সেরনিয়াবাত, প্রাণকুমার সেন, জাহিদ হোসেন জাহাঙ্গীর, সফিউর রহমান (গদু মিয়া), সিরাজুল হক ভূঁইয়া (বাচ্চু মিয়া), অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, নূরুল ইসলাম খান, ডাঃ হাবিবুর রহমান, নিখিল সেন, বেলায়েত হোসেন, আমিনুল হক চৌধুরী, উকিল ওবায়দুল হক, কাজেম আলী, সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, মোশারেফ হোসেন মোচন, ইমাদুল্লাহ (লালা), মোশারেফ হোসেন নান্নু, রমিজুল হক চুন্নু, শহীদ আলতাফ মাহমুদ, শাহজাহান চৌধুরী, রানী ভট্টাচার্য, এম.এ গফুর মোল্লা, এম,এ মোতালিব, হোসেন আলী, বাচ্চু মিয়া, সাধন রায় চৌধুরী, বিমল সেন, আবুল হোসেন, আলী রতন, সর্দার গোলাম কুদ্দুস, সুলতান ভাই, মোজাহারুল হক ভূঁইয়া, হাজী লতিফ খান, আক্কেল আলী সিকদার, মুহাম্মদ সিকদার, শচীন্দ বোস, কবীর, হুমায়ুন, আলম মিয়া, বজলু মিয়া, বরুন দাস, নসরুল্লা খয়রল্লা, সৈয়দ আজিজুল হক শাহজাহান, সাইদুর রহমান, শহীদ মজিবর রহমান কাঞ্চন, জসিম বিশ্বাস, আশ্রাব আলী খান চৌধুরী, নূরুল ইসলাম মঞ্জু, মিসেস হামিদউদ্দিন, হোসনেআরা নিরু, মাহেনূর, মঞ্জুশ্রী সেন, সুনীল গুপ্ত, মুহাম্মদ ইউসুফ, কেরামত আলী প্রমুখ। এবং একই সাথে ভাষা-আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলর জন্যে তখন, বিএম কলেজেও-পৃথকভাবে একটি ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়। বিএম কলেজের সেই সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন, বিএম কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের ভিপি এস.এম কিবরিয়া, এবং এই পরিষদের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন, ছাত্রলীগ সম্পাদক: এ.কে.এম বেলায়েত হোসেন, সহ-সভাপতি মতিউর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক : গোলাম রব্বানী, ট্রেজারার : রফিক ইসলাম, এবং সিদ্দিকুর রহমান, মোহাম্মদ ইউসুফ কালু, কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সম্পাদক: আবদুস ছত্তার, সমীর পাল, জসিম বিশ্বাস, সর্দার গোলাম কুদ্দুস প্রমুখ নেতৃবৃন্দ এই কমিটেতে ছিলেন।

 

সাধারণত বিএম কলেজের তখনকার ছাত্রনেতারাই বরিশালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে সকল প্রকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কেননা, বিএম কলেজের ছাত্র-নেতারাই তখন সর্বদলীয় জেলা রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সাথে একত্রিত হয়ে আন্দোলনকে বেগবান করে রেখেছিলেন। তাই বলা যায়, বরিশালের ভাষাআন্দোলনে বিএম কলেজের ছাত্ররাই ছিল মূল চালিকাশক্তি। আর সেই সময়ের ৫২’র ভাষা আন্দোলনে বরিশালের পুরোধা ব্যাক্তি ছিলেন, আবুল হাসেম। তিনি একজন নিবেদিত প্রাণ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে, এতদাঞ্চলে সকলের কাছে ‘হাসেম ভাই’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বরিশালে যদিও, সংগ্রাম পরিষদ গঠনের আগে থেকেই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের উদ্যোগে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সব রকম প্রস্তুতিই নেয়া হয়েছিল। সারাদেশে যখন এই আন্দোল ছড়িয়ে পড়ে, তখন বরিশালেও ১১-ফেব্রুয়ারি হতে শহরের খ- খ- মিছিল ও পথসভা চলতে থাকে।সেইসব মিছিলে ব্যানারে ফেস্টুনে রক্তিম অক্ষরে লেখা ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ আর সকলের বুকে সেঁটে নেয়ার জন্যে ব্যাজ ও সকলের হাতে ছোট ছোট পতাকা থাকত এবং শহরের সর্বত্র দেয়ালে দেয়ালে লাগিয়ে দেয়া হয়েছিল হাতের লেখা জাঁঝালো সব পোস্টার।

 

তখনকার তরুণ-কর্মীরা রাতারাতি শত শত পোস্টার হাতে লিখে তৈরি করে ফেলত। যদিও সেই সময় মাইক ছিল না। তবুও প্রচার থেমে থাকেনি। যুবকরা হাতে হাতে টিনের চোঙ্গা ফুঁকে দিনরাত প্রচার চালিয়েছেন। এ-ভাবেই সে-সময়ে বরিশালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের কার্যক্রম চলতে থাকে। এরপর সেই ২১-ফেব্রুয়ারির ভোর থেকেই ছোট ছোট মিছিল বিএম কলেজ এবং শহর ও পার্শ্ববর্তী স্কুল-কলেজের ছাত্র/ছাত্রীরা অশ্বিনী কুমার টাউন হল প্রঙ্গনে এসে সমবেত হয়। তারপর ছাত্র-জনতা সকলেই এই গণ জামায়েতে সামিল হয়ে, প্রতিবাদ মিছিলের মাধ্যমে শহর প্রদক্ষিণ করে আবার টাউন হলে ফিরে আসে।

 

সে-দিনের সেই মিছিলেশ্লোগানের ভাষা ছিল, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ ‘রাজবন্দিদের মুক্তি চাই’ ‘বাংলাভাষা অমর হোক’ ইত্যাদি। অজস্র মানুষের এই মিছিলটি প্রায় এক মাইল লম্বা ছিল। সে-দিনের মিছিল শেষে সন্ধ্যার সময় একজন পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে জানা যায় যে, ঢাকায় ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে।

 

এরপর খবরটি আরও নিশ্চিত হতে, ঢাকা থেকে আগত শামসুল হুদা নামক জনৈক স্টীমার যাত্রি ঢাকার পত্রিকার কয়েকটি বিশেষ ‘টেলিগ্রাম সংখ্যা’ নিয়ে এলে, তা পাঠ করে ঢাকার সঠিক খবর পাওয়া যায়। এবং জানা যায়, ঢাকার রাজপথ পুলিশের গুলিতে রঞ্জিত হয়েছে, এবং রফিক, বরকত, ছালাম ও অন্যান্য ছাত্ররা নিহত হয়েছেনে। সে-দিনের এই সংবাদ শুনেই… বরিশালের আগণিত ছাত্র-জনতা তখন রুদ্র-অক্রোশে গর্জে ওঠে। রাত ৯-টায় শহরে অবার শুরু হয় মিছিল এবং প্রতিবাদ। স্বত:স্ফূর্তভাবে সেই প্রতিবাদ ও শোভাযাত্রা সারারাত ধরে শহরের আরিগলি ঘুরে বেড়িয়েছে।

 

জেলা সংগ্রাম পরিষদের নেতা কর্মীরাও সারারাত শহর এবং শহরতলীর সর্বত্র ঢাকায় ছাত্র হত্যার এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রচার চালিয়ে, বরিশালের সর্ব-স্তরের জনগণকে সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল। ফলে ২২-ফেব্রুয়ারি ভোর থেকেই প্রতিবাদী জনতা ছুটে আসতে থাকেন টাউন হলের সামনে। শহরের আশপাশ গ্রাম থেকেও মিছিলে মিছিলে ছুটে আসে অনেক মানুষ। তারপর টাউন হলের সামনে থেকে একটি মৌন মিছিল বের করা হয়।

 

সেই মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন, সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং বহু ছাত্রছাত্রী এবং সচেতন গৃহিনী মহিলাও। অশ্র“সজল এবং স্বাধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রত্যযী হাজার হাজার জনতার সম্মিলিত সেদিনের সেই মৌন শোভাযাত্রার রূপ প্রত্যক্ষদর্শী বরিশালের বহু ভাষা-সৈনিকের কাছে আজও চির ভাস্বর হয়ে আছে। সে-দিনের সে মিছিলটি সারা শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে এসে, এখন যেখাকে বরিশালের কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারটি রয়েছে-সেখানে এসে শেষ হয়েছিল। বিকেল ৪-টায় টাইন হলে অনুষ্ঠিত হয় শোকসভা। সেই সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন, আবদুল মালেক খান। টাউন হলের ভিতর এবং বাইরে সদর রোড ছিল অজস্র মানুষের ভিড়। বিক্ষুব্ধ জনতার কণ্ঠে ‘ছাত্র হত্যার বিচার চাই’, ‘নূরুল আমিনের মুক্তি চাই’, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ ইত্যাদি শ্লোগানে শ্লোগানে বরিশাল শহর সেদিন প্রকম্পিত করে তুলেছিল।

 

সেই বিশাল জনসভায়, বিডি হাবিবুল্লাহ, আবুল হাশেম, আলী আশরাফ, সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া অরও অনেই বক্তৃতা করেন। ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে সেদিন বরিশালের অনেক রাজনৈতিক কর্মী ‘মুসলিম লীগ’ দল ত্যাগ করে তারা ভাষা আন্দোলনের মহান কার্যক্রমের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং অনেকেই সেদিন আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ২৩-ফেব্রুয়ারি সকাল ১০-টায় একে স্কুলের মাঠে গায়েবানা জানাজা হয়। বহু ছাত্র-যুবার সঙ্গে গ্রামাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ পায়ে হেঁটে এসেও এই জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। এরপর ২৪-ফেব্রুয়ারি চকবাজারের মুহাম্মদ সুলতান, জাহিদ হোসেন জাহাঙ্গীরের প্রচেষ্টায় উদ্যোগী হয়ে মোশারেফ হোসেন নান্নু, মোশারফ হোসেন মোচন, আবুল হাসেম ও আলী আশরাফ সহ কতিপয় তরুণকে সঙ্গে নিয়ে অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে ভাষা শহীদদের স্মরণে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করেন।

 

এলাকার আশপাশ থেকে ইট-মাটি সংগ্রহ করে এনে একটি বেদি তৈরি করেন এবং মুহাম্মদ সুলতান তার কাপড়ের দোকানের ১০ গজ সাদা কাপড় এনে দিয়ে শহীদ মিনারটিকে সু-সজ্জিত করে মুড়িয়ে দেন। সেদিন অতিদ্রুত এবং কিছুটা অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত সেই শহীদ মিনারে ওড়ানো হয় শোক ও সংগ্রামের প্রতীক কালো এবং লাল পতাকা। তরপর পুষ্পমাল্য দিয়ে মিনারটি উদ্বোধন করেন, সংগ্রম পরিষদের আহ্বায়ক আবুল হাসেম। বরিশালে এটিই ছিল শহীদদের স্মরণে সর্বপ্রথম নির্মিত স্মৃতির মিনার। মিনারটি তৈরি করা হয়েছিল শহরের কেন্দ্রস্থল টাউন হলের সামনে কিন্তুু মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ২৭-ফেব্রুয়ারি সরকারের নির্দেশে টাউন হলের সামনে নির্মিত শহীদ মিনারটি রাতের আঁধারে পুলিশ- আর্মিরা ভেঙ্গে ফেলে।

বরিশালের অবিসংবাদিত নেতা শেরে-বাংলা একে ফজলুল হক ভাষা আন্দোলনে ছাত্রদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন। তিনি পূর্ব-পাকিস্তান আইন সভায় একুশে ফেব্রুয়ারি ছাত্রহত্যার প্রতিবাদ জানান। ভাগ্নে সৈয়দ আজিজুল হক নান্না মিয়াকে নিয়ে একুশের মিছিলে নিহত ও আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।

 

সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ছাত্রহত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেন। এবং ২২-ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেডিকেল কলেজে শহীদদের গায়েবী জানাযায় অংশ নেন। এদিন ঢাকায় ছাত্রহত্যা প্রতিবাদ সভায় যুবলীগের সম্পাদক, বরিশালের এমাদুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক, বরিশালের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। তার সম্পাদিত সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় তখন ছাত্রহত্যা ও ভাষা-আন্দোলনের সকর প্রকার সংবাদ গ্রামবাংলার মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ব্যাপক কাজ করেন।

 

২৭-ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান ও মঠবাড়িয়ার মহিউদ্দিন আহমদ ফরিদপুর জেল হতে মুক্তিলাভ করেন। তারা উভয়েই জেলখানায় ছাত্রহত্যা ও রষ্ট্রভাষার জন্য জেলখানায় বসেও অনশন পালন করেন। মহিউদ্দিন আহমদ ঢাকা হতে ফরিদপুর জেলে যাওয়ার পথে তাকে দেয়া ১০০ টাকা বরিশালে ভাষা আন্দোলনের কাজে ব্যয় করার জন্য পাঠিয়ে দেন।

শহীদদের স্মরণে তখন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি যে বিপ্লবী রূপ ধারণ করেছিল, তারই ধারবাহিকতায়, কবি লেখক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী লেখেন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ মতো কালজয়ী গান লেখন। এই গানটি প্রথম সুরারোপ করেছিলেন, বরিশালেরই সুরকার ও সংগীত শিল্পী আবদুল লতিফ। গায়ক আবদুল লতিফ ঢাকা এবং বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিজ কণ্ঠে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই গানটি লোকদের গেয়ে শোনাতেন। তবে বর্তমানে এই গানটির অপূর্ব ব্যঞ্জনাময় বেদনার সাথে দৃপ্ত সংগ্রামী চেতণার সমন্বয়ে যে কালজয়ী সুরের মুর্ছনা আমাদের মাঝে যুগ যুগ ধরে বিরজমান আছে, দ্বিতীয়বার এই গানটির সুর করেছেন বরিশালের আরেক কৃতি সুরকর শহীদ আলতাফ মাহমুদ। তিনি বরিশাল আর. সি. দাশের দালানে বসে একুশের অমর এই গানের সুরারোপ দেয়ার জন্য কাজ করেছেন এবং সুরকার শহীদ আলতাফ মাহমুদের সুরটিই একুশের প্রভাত ফেরিতে চিরন্তন সুরে আজও ধ্বনিত হয় বাঙালির অন্তরে অন্তরে।

 

১৯৭৩-সালের ৩-জানুয়ারি (১৩৭৯ সনের ১৮-পৌষ) স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বরিশাল আসেন। ওই দিন তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেই সময় গণপূর্ত বিভাগের ৬-একর জমিতে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা মঞ্জুর করেন। এরপর ১৯৭৪-সালের ৩১-মে বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তৎকালীন জেলা প্রশাসককে সভাপতি এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মঞ্জুরকে সাধারণ সম্পাদক করে বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ কমিটি গঠন করা হয়। তখন সরকারের মঞ্জুরীকৃত টাকা না পাওয়ায়-শহীদ মিনার নির্মানের জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৫২ হাজার ১১৫ টাকা চাঁদা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এমোনই যে, ১৯৭৫-সালের ১৫-আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হলে দেশের রাজনীতি আবার উল্টো ধারায় চলতে থাকে।

 

সেই সাথে বন্ধ হয়ে যায় বরিশালের শহীদ মিনার নির্মানের উদ্যোগ। কিন্তু বাঙালির মন থেকে কি? একুশের চেতনাকে এতো সহযেই মুছে ফেলা সম্ভব? তাই প্রতিবছর একুশের ভোরে বরিশালবাসী বঙ্গবন্ধুুর স্থাপিত শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তরের স্তম্ভেই শহীদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ হতে থাকে। এভাবে প্রায় একদশক পর ১৯৮৫-সালের শহীদ দিবস পালন উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সেই সভায় সাংবাদিক-নাট্যকার মিন্টু বসু, সংস্কৃতিজন অধ্যাপক বদিউর রহমান এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুধীর সেন বরিশালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নির্ধারিত স্থানে শহীদ মিনার করার প্রস্তাব দিলে, তা- সভায় সর্ব-সম্মতভাবে গৃহীত হয়। সেই সভায় বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য পুনরায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সাইফুদ্দিনকে সভাপতি এবং বরিশাল কলেজের উপাধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ মোঃ হোসেন আলীকে আহ্বায়ক, বদিউর রহমান, সাংবাদিক সুধীর সেন ও বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের প্রতিনিধি মোঃ শাহ নেওয়াজ খানকে যুগ্ম আহ্বায়ক, রূপালী ব্যাংকের ডিজিএম : আবদুল আউয়ালকে কোষাধ্যক্ষ করে, ২৯-সদস্য বিশিষ্ট ‘বরিশালকেন্দ্রিয় শহীদ মিনার নির্মান পরিষদ’ গঠন করা হয়। এবং পরবর্তী অন্য একটি সভায় এই পরিষদের কলেবর বৃদ্ধি করে আরও ২৮-জন বিভিন্ন শ্রেণীপেশার বিশিষ্টজনকে অন্তভুক্ত করে, আত:পর সর্বমোট ৫৭-সদস্যের একটি কমিটি পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে সদস্য ছিলেন, মো: নূরুল ইসলাম, এ্যাড. ইউসুফ হোসেন হুমাউন, এম.এ গফুর, ডা, সৈয়দ হাবিবুররহমান, ডা. মাহতাফ উদ্দিন, এস.এম ইকবাল,সৈয়দ গোলাম মাহবুব, নূরুল আলম ফরিদ, মিন্টু বসু, মো: সুলতান আলম (নয়া মিয়া), মহিউদ্দিন মানিক (বীর প্রতীক), অধ্যাপক নোমান রশীদ, এ.এস.এম ইউসুফ, গোলাম সরোয়ার চৌধুরী, শেখ মো: আবদুল মালেক, মাকসুদ আলী বাদল, ফেরদৌসী বেগম (মিলকী), হামিদ উদ্দীন, এ.এন আওলিয়া বেগম, মাহফুজা জামাল, হোসনেযারা বেগম (বুলু), মো: আবদুল কাইউম, গোলাম ছালেক, নূরুল ইসলাম মঞ্জু, গোলাম মাওলা, মফিজুল ইসলাম ঝন্টু, বিপ্লবী দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ, মহিউদ্দিন আহম্মদ, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, রেজাউল মালেক মনু, হাসান ইমাম চৌধুরী, আ: বারেক, মো: ইউনুস খান, এ.কে কুতুবউদ্দীন, এনায়েত পীর খান, নূরুল ইসলাম মুন্সী, আরব আলী, আবদুস সাত্তার হাওলাদার, শামসুল আলম, মুজিবুর রহমান তালকদার, কাজী মোখলেছুর রহমান, মতিউর রহমান, শওকত হোসেন হিরন, নিখিল সেন, মশিউর রহমান ঝন্টু, অনুতোষ ঘোষ, মানবেন্দ্র বটব্যাল, এনায়েত হোসেন চৌধুরী, মোস্তফা কমাল জাহাঙ্গীর, এবং ঠিকাদার মতিউর রহমান।

 

পরবর্তী আরও এক সভায় শহীদ মিনারের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৭-সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাহী পরিষদও গঠন করা হয়। নির্বাহী পরিষদের সভাপতি জেলা প্রশাসক ও সাধারণ সম্পাদক চিলেন, এনায়েত হোসেন চৌধুরী । সেই সভায় ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অনুরূপ বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং এ ব্যাপারে আহ্বায়ক হোসেন আলীকে সে বিষয় দায়িত্ব দেয়া হয়।

 

প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের তত্বাবধায়ক ড. মিজানুল হক শেলী ঢাকার শহীদ মিনারের আলোকে, বরিশালের মিনারের মূল নকশা প্রস্তুত করেন। পরে ঢাকার শহীদ মিনারের আলোকে হ্রাসকৃত একটি নকশা প্রণয়ন করেন এনায়েত হোনে চৌধুরী। এরপর কাঙ্খিত বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন, পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। এ সময় গণপূর্ত বিভাগ থেকে মিনার নির্মাণ কাজে বাঁধা প্রদান করে কয়েকটি চিঠি চালাচালি হয়। একই সময় শহীদ মিনারের জায়গা দখল করে মুসলিম ইষ্টিটিউটের প্রাচীর গড়ে তোলা হয়।

 

যদিও গড়ে তোলা প্রচীর ১৯৮৪ সালের একুশে ফেব্র“য়ারির সকালে সাংস্কৃতিক কর্মীরা সহজেই ভেঙ্গে ফেলতে পেরেছিলেন। বিশেস করে তখনকার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের ঐকান্তিকতা এবং তরুণ ঠিকাদার লাভলু হাসানের সার্বিক সহযোগিতা ও কমিটি সদস্য এনায়েত হোসেন চৌধুরী, মিন্টু বসু, শাহনেওয়াজ খান ও বদিউর রহমানের নিয়মিত নির্মাণ কাজের তদারকির মাধ্যমে বরিশালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজটি যথা-সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়। তবে, এই নির্মাণ কাজের জন্য যারা নগদ আর্থ এবং নিমাণ সামগ্রী দান করেছেন, এক্ষেত্রে তাদের আবদানও খাটো করে দেখা সম্ভব নয়, এক্ষেত্রে অমৃত লাল দে, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, অপসোনিন ফার্মা লিঃ, বিডিএস, বরিশাল সিমেন্ট ডিলার সমিতি, বরিশার জেলা বাস মালিক সমিতি, হাজী আদম আলী এন্ড সন্স, হিমাংশু দাশগুপ্ত নাথু, আকতার হোসেন খান, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, শওকত হোনে হিরন, মতিউর রহমান, আ: গনি, আ: ছালাম, সৈয়দ শাফায়েত হোসেন সাবু, জহিরুল উসলাম পান্না, আমিনুল ইসলাম সুরুজ, ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন, মেসার্স খান এন্ড সন্স, সিরাজুল ইসলাম, মনোরঞ্জন গান্ধী, এনামুল করিম এনাম, আবদুল হাই, ডা. সৈয়দ হাবিবুর রহমান, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, রেফকো ল্যাবরেটরীজ, পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতি, এস.এম ইউসুফ, মো. হোসেন আলী, হাসান ইমাম চৌধুরী, শুনু এন্ড ছালেক কোং।
অবশেষে, ১৯৮৬-সালের ১৭-ফেব্রুয়ারি থেকে বরিশাল সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী একুশের আনুষ্ঠানের মাধ্যমে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাত ফেরির করে নির্মাণাধীন বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে বরিশালবাসী প্রথম শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে। উল্লেখ্য, নির্মিত শহীদ মিনারের মূল বেদীতে অদ্যাবদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ছোঁয়া বিজড়িত ভিত্তিপ্রস্তরটি আজও সম্মানের সাথেই রাখা আছে।

বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউজের উত্তর পাশের জাজে’স কোয়াটারের সামনের বিসৃত প্রাঙ্গনে প্রায় তিনহাজার স্কোয়ার বর্গফুট জায়গায় বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটির অবস্থান, নিমাণ শৈলী ও সৌন্দর্যের দিক বিবেচনায়, ঢাকা কেন্দীয় শহীদ মিনানের পরে বাংলাদেশে বরিশালের কেন্দ্রীয় মিনারটিই দ্বিতীয় বৃহত্তম শহীদ বেদী হিসেবে বহুল প্রশংসিত। এ-ছাড়াও বরিশালের এই মিনারটিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরাসরি স্মৃতি বিজরিত রয়েছে বলে, মিনারটি বরিশালবাসীর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বেরও বটে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
মে ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« এপ্রিল    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
Website Design and Developed By Engineer BD Network