২০শে জুন, ২০১৯ ইং, শুক্রবার

মঠবাড়িয়ার নির্মাণ সামগ্রীর দখলে সূর্যমণি বধ্যভূমি

আপডেট: মার্চ ১৬, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মহান মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যায় ২২ শহীদের গণসমাধিস্থলের আশপাশ জুড়ে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রেখে পরিবেশ বিনষ্ট করা হচ্ছে। বধ্যভূমি সংলগ্ন একটি পানি সরবরাহ প্রকল্পের নির্মাণ সামগ্রী যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে বধ্যভূমির পরিবেশ বিনষ্টসহ বধ্যভূমির কিছু জমি দখল করে পানি সরবরাহ প্রকল্পের একটি পাম্পহাউজ নির্মাণের অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বধ্যভূমির পরিবেশ ও ২২ শহীদের গণসমাধিস্থলের পবিত্রতা এভাবে নির্বিঘ্নে বিনষ্ট করছে প্রভাবশালী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

দেখা গেছে, বধ্যভূমির সুরক্ষা ওয়াল ও গেট ভেঙে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ সামগ্রী যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে। ওই বধ্যভূমির সম্মূখ বেড়িবাধের উল্টো দিকে কৃষিজমির বিশাল এলাকা জুড়ে মঠবাড়িয়া পৌরশহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের নানা স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। এডিবির অর্থায়নে ওই পানি সরবরাহ প্রকল্পটি সিনোকনস্ট ও এএসএস কনসোর্টিয়াম যৌথভাবে এ প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ করছে। কিন্তু ঠিকাদিারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্প এলাকা বাইরে বধ্যভূমির ভেতরে গত ছয়মাস ধরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রেখে বধ্যভূমিটির পরিবেশ ও পবিত্র বিনস্ট করে। এমনকি বধ্যভূমির ১০ শতাংশ জমির ভেতরের পূর্বাংশে জমি দখল করে ওই প্রকল্পের একটি পাম্পহাউজ নির্মাণের জন্য গত ১০/১২ দিন আগে বধ্যভূমির জমিতে বোরিং করে। ফলে পুরো বধ্যভূমি অরক্ষিত হয়ে পরিবেশ বিনস্ট হয়ে পড়েছে।

বধ্যভূমিটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় বৃদ্ধ আব্দুল হাকিম অভিযোগ করেন, বধ্যভূমির সামনের গেট ভেঙ্গে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রেখে পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে। এমনি কি বধ্যভূমির জমিতে একটি স্থাপনা গড়ে তোলার জন্য মাটির তলদেশে বোরিং করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। বাঁধা দিয়েও কোন ফল হয়নি।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম জালাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বধ্যভূমি মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক পবিত্র স্থান। সেখানে শহীদ বেদি ও গণসমাধির স্থানের পরিবেশ সুরক্ষার দায়িত্ব সকলের। অথচ এর আশপাশ দখল করে পরিবেশ বিনষ্ট করা হয়েছে এটা দু:খজনক।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বাচ্চু মিয়া আকন বলেন, নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে বধ্যভূমির পরিবেশ সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে বলা হয়েছে। এখনও ব্যবস্থা না নিলে পুনরায় সরেজমিনে গিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ব্যাবস্থাপক জিএম সরফরাজ বলেন, বধ্যভূমির ভেতর অংশে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রেখে পরিবেশ বিনস্টের অভিযোগ পেয়ে দুইজন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে মালামাল সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বধ্যভূমি ও শহীদ বেদীর পরিবেশ বিনষ্টের এখতিয়ার কারও নেই।

প্রসঙ্গত,১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালে ৬ অক্টোবর ভোর রাতে মঠবাড়িয়ার আঙ্গুলকাটা গ্রামের ৩০ হিন্দু বাঙালীকে ধড়পাকর করে স্থানীয় সংগঠিত রাজাকার বাহিনী। এরপর সূর্যমণি গ্রামের বেড়িবাধ সংলগ্ন স্লুইজগেটের পাশে একদড়িতে ৩০ বাঙালীকে বেঁধে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। এদের মধ্যে ২২জনের লাশ সূর্যমণি বেড়িবাঁধের পাড়ে গণসমাধি দেওয়া হয়।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
জুন ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« মে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
Website Design and Developed By Engineer BD Network