২৪শে মে, ২০১৯ ইং, শুক্রবার

মায়ের সঙ্গে তারকাদের ছবি ও প্রতিক্রিয়া

আপডেট: মে ১২, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আজ (১২ মে) বিশ্ব মা দিবস। মমতাময়ী মাকে উৎসর্গ করে এই দিনকে ঘিরে অনেক আয়োজন চলছে চারপাশে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মাকে নিয়ে ভালোবাসার কথা জানাচ্ছেন তারকা সন্তানেরা। হচ্ছেন স্মৃতিকাতর। প্রকাশ করছেন দুর্লভ সব ছবি।
চঞ্চল চৌধুরী:

মা দিবস কী? আমার মা সেটা জানেই না। জানার কোনও দরকারও নেই। কারণ আমাদের আট ভাই বোনকে জন্ম দিয়ে মানুষ করতে করতেই তো তাঁর জীবন পার হয়ে গেল। তারপর নাতিপুতি আরও কত কিছু! আর আমার কাছে মা দিবস তো প্রতিদিন। প্রতিদিন প্রতিক্ষণ আমি মাকে ডাকি। মায়ের মুখের হাসিটাই আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ। সকল মায়ের প্রতি আমার শ্রদ্ধা। মা আমাদের সবাইকে এই পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন।

হামিন আহমেদ:
মা, তোমাকে অনুভব করি প্রতিদিন প্রতিটি মুহূর্তে।

শবনম ফারিয়া:
আমার জীবন হলো খুব সুন্দর। কারণ আমার চারপাশে আছেন দুই মা।

দীপান্বিতা ইতি:
মা তোমাকে ধন্যবাদ আমাকে ব্যাংকে পাঠানোর জন্য। যখন আমি ক্লাস থ্রিতে তখন তুমি আমাকে ব্যাংকে পাঠিয়েছিলে স্কুলের ফি দিতে। আমি শিখেছিলাম, কীভাবে একা একা ব্যাংকের কাজ করতে হয়।
ধন্যবাদ মা। যখন আমার বয়স ১৮ তুমি আমাকে বলেছিলে, যদি আমি থিয়েটার করতে চাই, তাহলে এর খরচ নিজে উপার্জন করতে হবে। এরফলেই আমি প্রথম উপার্জন করতে শিখি। ধন্যবাদ মা, আমাকে অনেক কাজ একা একা করতে দেওয়ার জন্য। এসব কিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।
যার ফলে আমি নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নয়, আমার চারপাশের সবকিছুই পরিচালনা করতে শিখেছিলাম।

বিউটি:
মা তোমার মতো এখন তো আর কেউ আমায় ভালোবাসে না! মা তোমার মতো এখন তো আর কেউ আমায় আদর করে না! পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা!
ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মা।

নাজনীন হাসান চুমকী:
দুই মাসের বেশি বয়সে আমি মিঁউকে নিয়ে আসি। তখন ফুলটাইম সহকারী ছিল না আমার বাসায়। তো, মিঁউকে নিয়ে আসার মাস কয়েক পর ঈদে মা আশা করলো আমি বাড়িতে যাব ঈদ করতে। কিন্তু অনেক ইতস্তত করে মা জানালো, আব্বা কুকুর ভয় পায়, তার ওপর আবার মা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। আমি তো মিঁউকে না নিয়ে যাব না। অনেক ভেবে, মা জানালো ‘ঠিক আছে ওকে নিয়েই আয়’।
মিঁউ এক অদ্ভুত বাচ্চা। পুরো বাড়ি ঘোরা শেষ করে সে মা আর আব্বার পিছু নিলো! আব্বা ভয়ে দৌড়ায় আর মা হাসে। আমি কী করবো ভেবে না পেয়ে মিঁউকে ডাক দিলাম, ‘মাম্মা তুমি আমার কাছে আসো’। সেই ডাক শুনে মার কি মন খারাপ! আমাকে কিছু বলে নাই কিন্তু আমার মেঝো আম্মার কাছে দুঃখ নিয়ে বললো, ‘মেয়ে আমার কুকুরকে মাম্মা ডাকে’। আমাকে মেঝ আম্মা মার দুঃখের বিষয়টি জানালো। আমিও বুঝে পেলাম না, আমার অনুভূতির কথা মাকে কিভাবে বোঝাবো!
এক রাত পার করে পরদিন মা যখন জোহরের নামাজ আদায় করছিল, তখন আমি আবিষ্কার করলাম মা নামাজ আদায় করছে আর মিঁউ জায়নামাজের পাশে বসে খুব মনোযোগ দিয়ে তা দেখছে। আমি তুলে নিয়ে আসি মিঁউকে, সে মুহূর্তের মধ্যে আবার মায়ের কাছে যায়। এর মধ্যে মা নামাজ শেষ করে জায়নামাজে বসেই মিঁউর সাথে গল্প করছে! সেদিন যে কি আনন্দ পেয়েছিলাম। এবং আব্বার কুকুরভীতি দূর করলো আমার মা। মিঁউয়ের টয়লেটও ক্লিন করা শুরু করলো। ধীরে ধীরে দেখলাম, আমাদের বাড়ির খালা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া মেঝো আম্মা, ভাবীরাসহ পুরো পরিবার মিঁউয়ের ভক্ত হয়ে গেল। কত আদর মিঁউয়ের। এরপর যখনই আমি বাড়িতে যাই সবাই অপেক্ষা করে থাকে, মিঁউ-সুন্দরী আসছে। আমি দেশের বাইরে গেলে প্রতিদিন নিয়মমাফিক মিঁউ আর সুন্দরীর খোঁজ নেয়ার দায়িত্বে মার কোনও ভুল হয় না। এই সমাজের মানুষ না বুঝলেও আমার মা ঠিকই বোঝে মিঁউ আমার কাছে কী। মায়ের অন্য সকল আদর-ভালবাসা-স্নেহের যেমন ঋণ শোধ করতে পারবো না, তেমন এই বোধেরও ঋণ শোধ করা সম্ভব নয় আমার পক্ষে। পৃথিবীতে একমাত্র মায়েরাই পারে সন্তানের সকল অনুভূতির মূল্য দিতে। অলৌকিক এক ক্ষমতা দিয়ে নারীদেরকে মা বানান সৃষ্টিকর্তা।
অনেক ভালবাসি মা…।

শবনম বুবলী:
আমার অক্সিজেন, আমার পৃথিবী এবং আমার সবকিছুই হলো মা।

কোনাল:
আজ টাইমলাইনজুড়ে শুধু মা আর মা। শ্রদ্ধা রইলো সব মায়েদের প্রতি।
কিন্তু এই মাকে আমরা সবসময় সেই ভালোবাসা শ্রদ্ধা কি দিতে পারি? এমন অনেকে আছেন, যারা মায়ের সঙ্গে চিৎকার করে কথা বলেন, একটু ভুল হলেই ধমকের সুরে শুধরানোর চেষ্টা করেন। মা কিছু জানতে চাইলে, শিখতে চাইলে অস্থির হয়ে অসহ্য মুখ নিয়ে জানিয়ে দেন বিরক্তির কথা। আপনি ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরলে মা কিন্তু ঠিকই অস্থির হয়ে যান ঘাম মুছে দেবার জন্য। কিন্তু আপনি হয়তো মার সারাদিনের ক্লান্তি, বয়সের ছাপ, মানসিক অবস্থা কখনও খেয়ালই করেন না। অসুস্থ হলে নির্ঘুম ক্রন্দনরত রাত যেই মা কাটান, তাঁর অসুস্থতায় হয়তো ভ্রুক্ষেপই করেন না।
আবার অনেকে, ‘মা থাকলে একটা বাড়তি টেনশন’ ভেবে, অথবা স্বামী/স্ত্রীর মন রক্ষার্থে, মাকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করতে পিছপা হন না।
কিন্তু মা কি করে জানেন? সারাদিন আপনার একটা ফোন কলের জন্য অপেক্ষা করেন। ২৪ ঘণ্টাই সে বসে থাকে আপনার সঙ্গে একটু কথা বলতে, সারাদিনের বিভিন্ন বিষয় আপনার সঙ্গে শেয়ার করতে, বিভিন্ন পরামর্শ, সুখ-দুঃখ, সব আপনার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে উদগ্রীব থাকেন মা। আসলে একটু সময় চায় আপনার মূল্যবান ২৪ ঘণ্টা থেকে। ঐটুকুই আমরা দেই না। হয়তো পারি না।
কিন্তু একটা সময়, পৃথিবীর সমস্ত অজুহাতগুলো আনলেও মাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না। মায়ের সেই হাত, সেই চোখ, সেই ঠোঁট, সেই নরম শাড়ি, সেই চুমু, সেই আলিঙ্গন, সেই ঘ্রাণ, সেই হৃদয় নিংড়ানো আদর, কোটি টাকা দিলেও ফিরে পাওয়া যায় না। মা তো শুধু মা না, মা হলো সেই বান্ধব, যিনি আপনার সারা বিশ্ব সমান গোপন কথা লুকিয়ে রাখেন। যাঁর চোখে সবচাইতে মহামূল্যবান ব্যাপার হলেন আপনি, আর শুধুই আপনি। যার কাছে সকল কিছুর বিনিময়েও হয় না আপনার তুলনা। তিনি মা।
মাকে, নিজের কাছে রেখে, তার যত্ন করা, তার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারা, তাকে আদর করতে পারা, তাকে ভালোবাসতে পারা, তার পায়ের কাছে ঘুমিয়ে থাকতে পারা, তার হাত আপনার হাতে রাখতে পারা একটি ঈশ্বর প্রদত্ত উপহার। সবাই তা পায় না! আপনি পেয়ে থাকলে দয়া করে এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করুন। পরে আপনার সমস্ত সম্পত্তি, সময়, শক্তি, বা ক্ষমতা দিয়েও মাকে যখন আর পাবেন না, তখন মনে হবে পৃথিবীতে বেঁচে থেকে আর লাভ কী!
আমার সঙ্গে যুক্ত সকল বন্ধু বান্ধব, বড়-ছোট, ভক্ত, অনুগ্রাহী, সবার প্রতি অনুরোধ; মাকে সময় দিন।
২০০৯-এ যখন স্থায়ীভাবে দেশে থাকা শুরু করলাম, তখন থেকে একটি বিখ্যাত গানের কয়েকটি লাইন আমার মাথায় সারাক্ষণ ঘুরতো। সে লাইনগুলো দিয়েই শেষ করি, আপনার ভাবনা শুরু হোক।
‘তুমি যেদিন থাকবে না মা/ সেদিন আমার হবে কী/ সুখে থাকি দুঃখে থাকি/ কাহার আসবে যাবে কী/ মায়ের মতো আপন কেহ নাই।’

ইমরান:
তোমার জন্যই আজ আমি এই অবস্থানে!
বিশ্ব মা দিবসে সকল মায়ের প্রতি রইলো নিঃস্বার্থ ভালবাসা ও শ্রদ্ধা।

ঐশী:
মা মানুষটি প্রত্যেকটি মানুষের কাছে সবচেয়ে ভালোবাসার, তেমনিভাবে আমার কাছেও। কিন্তু আমি জানি, আমার মা হলেন সবার থেকে আলাদা ‘মা’। এমন মা আর কারও নেই। আম্মু, তোমাকে ভালোবাসার দিন তো প্রতিদিন। কিন্তু বলাটা কেন জানি হয় না।
আজকের মা দিবস হলো তোমার প্রতি ভালোবাসাটাকে একটু সাহস করে কিছু শব্দে তোমাকে বলা। এই আর কী!
তুমি তো আমার কাছে কোনও শব্দে প্রকাশ্য ব্যক্তি নও। তুমি হলে অদৃশ্য এক অদ্ভুত শক্তি, যে কিনা যে কোনও কঠিন সময়কে সহজ ও আনন্দের করে। আর আনন্দের সময়কে করে তোলে শ্রেষ্ঠ। মন যখন অনেক ভারি হয়ে যায়, তখন তোমাকে একটু জড়িয়ে ধরলেই হয়। কারণ আমার মনের ভারগুলো তো তখন তুমিই নিয়ে যাও।
নিঃস্বার্থ ভাবে নিজের জীবনটা বিলিয়ে দিয়েছ আমার মাঝে। আমার যা কিছু সব কিছুই তোমার, আর আব্বুরও।

মৌসুমী হামিদ:
আমার বিশ্বসেরা মা।

টয়া:
মা তুমি মহৎ একজন। তোমার দুই মেয়েকে তুমি অন্যরকমভাবে গড়ে তুলেছ। আমরা তোমাকে ভালোবাসি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
মে ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« এপ্রিল    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
Website Design and Developed By Engineer BD Network