২৬শে মার্চ, ২০১৯ ইং, মঙ্গলবার

লুনা আহমেদ-এর গুচ্ছ কবিতা

আপডেট: ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
মৃত্যু নয়, মৃত্যুর অধিক

ছবি আঁকতে দিলে প্রথমে স্তনের ছবি আঁকি। তারপর মা, মায়ের মুখ আঁকার সাথে সাথে মনে হয় স্বর্গ এঁকে ফেলেছি।
এরপর মানুষ আঁকার চেষ্টা চলে। মায়ের ছবি দেখে দেখে অনেক কিছু এঁকে ফেলতি পারি। ফুল- নদী,পাখি – গান, পাহাড়-আকাশ…

এভাবে আঁকতে আঁকতে বাবা পর্যন্ত পৌঁছোতে আর মানুষ আঁকা হয় না। যেহেতু, এ পর্যন্ত আসতে আসতে মানুষের নতুন পরিচয় জেনে যাই।

স্বর্গ থেকে নরকের দূরত্ব বেশি না। সর্বোচ্চ মৃত্যু পর্যন্ত।

অনির্ণেয়

করাতের ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে উলঙ্গ পা-অনিশ্চিত সম্ভাবনায় মোড়া দুর্গম পথ
কত দূর যেতে চায় মন? পায়ে ভর দিয়ে নাকি মনের জোরে!

সমুদ্রগামী নাবিক জানে-সমুদ্রের কান্না, জানে অতলের অস্পষ্ট আর্তস্বর
পথিক জানে পথের ধুলোর আরতি, জানে না পথের দৈর্ঘ্যমাপ।

পথ মাড়িয়ে হেঁটে চলা পা কখনো পথ মাপে না, মাপে জুতোর পরিধি
জুতো জানে না পথেরকাঁটা কিংবা পথেরপাঁচালি।

চোখ যেখানে মায়াবী ভ্রম

নদী হয়ে শুয়ে ছিলাম একা
চোখ পড়তেই সাপ ভেবে লাফিয়ে উঠলো একজন বৃদ্ধ
অথচ, একটু আগেই এক যুবক একদৃষ্টে তাকিয়ে দেখেছে।
*
একটি গাছ হাজারবছর দাঁড়িয়ে আছে
তারপাশের গাছ হয়ে দাঁড়াতেই শুয়ে পড়লো
অথচ,তার পাশে দাঁড়িয়ে অজস্র মানুষ ছায়া নিয়েছে।
*
একটি বাগানের ফুল হবার ইচ্ছে নিয়ে বাগানের কাছে যেতেই
ক্রমশ সবগাছ গুলো নুয়ে পড়লো-পাতাগুলো ঝরে গেলো
অথচ, বহু ফুল ফুঁটে আছে বাগানটাতে।

আয়নাবাজি

চোখের দিকে তাকাতেই-হারিয়ে ফেলি বর্ণরূপ
ভুলে যাই তের’শো কোটি বছর আগের পুরনো শোক ও ব্যথার মাউন্ট এভারেস্ট!
এতো সমুদ্র!
এতো জল!
এতো ক্ষয়!
এতো তৃষ্ণা! আগে দেখেনি। দেখেনি শিশিরস্নাত সকালের আর্বির্ভূত স্বপ্নসুন্দর।

প্রাচীরঘেরা আজন্ম দুঃখ আজ কেবলি আগুনমুখ
আমাকে পোড়ায়-ভাসায়-কাঁদায়
ভালোবাসা হলো ভাগ করা আপেল, অযতনে কালচে দাগ
যে জীবন স্বপ্ন দেখিয়েছে আজ সেও সমাপ্তি চায়
চোখ হলো আয়না যা শুধু দুঃখের রূপ দেখায়।

চোখ! আয়নাবাজি দেখাচ্ছে ভীষণ..

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
মার্চ ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১