২০শে মে, ২০১৯ ইং, সোমবার

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল মাঠে, পাল্টে গেল উজিরপুরের নির্বাচনী পরিবেশ

আপডেট: মার্চ ৬, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

শাকিব বিপ্লব : আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজুল রহমান ইকবাল চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে হঠাৎ করে নির্বাচনী মাঠে নেমে সাড়া ফেলেছে। মনোনয়ন দাখিলের পর গতকালই তাকে নির্বাচনী তৎপরতায় দিনভর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ আদলে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি শেষে প্রস্তুতি সভার ডাক দেন। বিকেলে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিপুল সংখ্যক লোক সমাগমের খবর পাওয়া গেছে। উজিরপুরে আ.লীগ নেতা ইকবালের উপস্থিতিতে দলীয় নেতা-কর্মিদের মধ্যে এক ধরণের প্রাণের সঞ্চয় হওয়ায় স্বতন্ত্র এই প্রার্থীর পক্ষে অনুসারীদের ভির ও সমর্থন বাড়তে শুরু করেছে।

 

দলীয় দায়িত্বশীল অনেক নেতাকর্মিসহ তার অনুসারীরা প্রকাশ্যে এসে তার পাশে অবস্থান নেয়ায় পাল্টে গেছে উজিরপুরের নির্বাচনী পরিবেশ। ধারণা করা হচ্ছে, দলীয় মনোনয়ন প্রার্থী আবদুল মজিদ বাচ্চু একপ্রকার বেকায়দায় পরেছেন। তিনি নির্বাচনী প্রস্তুতিতে মাঠ গুছিয়ে তোলার প্রাণান্তকর চেষ্টার মাঝে বর্তমান চেয়ারম্যান ইকবাল শোরগোল ফেলে দেয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মিরা এখন দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকে ঝোকায় তিনি সুবিধা করতে পারছেন না। উল্লেখ্য, দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর থেকেই আলোচনা ছিলো ইকবাল আদৌ নির্বাচনে আসবেন কিনা, তা নিয়ে দোদুল্যমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তার অনুসারীদের প্রবল চাপ ছিলো অন্তত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামুক। সূত্র জানায়, ইকবাল বিষয়টি জেলা আ.লীগের কর্ণধার আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে অপেক্ষমান ছিলো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহনে।

 

ইতিমধ্যে অনুসারীরা তার পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করলে উজিরপুর আ.লীগের রাজনীতিতে জটিল মেরুকরণ দেখা দেয়। দলীয় হাই কমান্ডের কাছে খবর ছিলো, ইকবাল নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ালে দলের জন্য ইতিবাচক কোন ফল আসছেনা, বরং হিতে বিপরীত হতে পারে। সেক্ষেত্রে ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এবার প্রার্থী হওয়ায় তার তুলনায় দুর্বল বাচ্চুর পক্ষে জয় ঘরে তোলা সম্ভবপর নয়। তাছাড়া ইককবালের ভোট ব্যাংক ও বিএনপি ভোটাররা একত্রিত হলে ওয়ার্কার্স প্রার্থীর জয়ের পথ সজতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদি কিনা স্বচ্ছ নির্বাচন হয়। বিভিন্ন মহল থেকে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে অন্তত উপজেলা নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়ার তাগিদ থাকায় সব হিসেব নিকেশ মিলালে উজিরপুরের উপজেলা চেয়ারম্যানের চেয়ার ধরে রাখতে গেলে ইকবালের বিকল্প নেই বলে মনে করছে।

 

দলঘনিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়- উজিরপুরের নির্বাচন নিয়ে এই হিসেব নিকেশ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর কাছে পরিস্কার থাকলেও জেলা আ.লীগের এক নেতার বিরোধীতার কারণে এবং দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্তে এক উদ্ভুত পরিস্থিতে ইকবালের বদলে বাচ্চুর নাম প্রস্তাব করে ঢাকায় পাঠানো হয়। এরপরই একটি মহল স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যান হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্টতার নানা অভিযোগ হাইকমান্ডের কাছে ইকবাল প্রসঙ্গে তুলে ধরায় শেষমেষ বাচ্চু দলীয় মনোনয়ন পেয়ে যান। যদিও পরবর্তীতে এ ষড়যন্ত্রের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায় যে মনোনয়ন বঞ্চিত করতেই এ ধরণের উদ্যোগ হাই কমান্ডের দুয়ার পর্যন্ত পৌছেছিল। কিন্তু পরবর্তী পরিস্থিতিতে উজিরপুর আ.লীগ দ্বিধা-বিভক্তি হওয়াসহ ইকবাল অনুসারীরা নির্বাচনে নীরবতা পালন করায় সমূহ জয় হাত ছাড়া হয়ে যাওয়ার নানা দিক হাই কমান্ড বিবেচনায় আনে। একই সাথে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহও বিষয়টি আঁচ করতে পারলেও কৌশলগত কারণে তিনি নীরব থাকায় হাই-কমান্ড অনুমান আনতে সক্ষম হয়েছে যে উজিরপুরের বিষয়টি জটিল। অপর একটি সূত্র জানায়- সার্বিক বিবেচনার আলোকে অবশেষে ইকবালকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থাকার সিগনাল দেয়। সেই সাথে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ নীরব সমর্থন জানান।

 

কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি কোন মুখ খোলেননি। ফলে জেলা আ.লীগ ও কেন্দ্রীয় নেতার ইকবালের প্রতি প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে তা এলাকার দলীয় নেতাকর্মিরা সহজেই অনুধাবনে আনেন। তদুপরি ইকবাল মাঠে না নামা পর্যন্ত সবই ছিলে ধোয়াশার মধ্যে থাকায় তার অনুসারীরা নীরব ছিলো। সূত্রমতে, সিগনাল পেয়েই গত মঙ্গলবার ইকবাল উজিরপুরে আসেন। ওই দিন তিনি নিজ এলাকা ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাঠী গ্রামে অবস্থান নিয়ে অনুসারীদের সাথে নির্বাচনের সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা করে পরিকল্পনার ছকে এগোনোর আকাঙ্খা প্রকাশ করেণ। এরপরই মাঠে নামেন।

 

জানা গেছে-গতকাল দিনভার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত অনুসারীদের বাড়ি বাড়ি উপস্থিত হয়ে সতেজ করে তোলার পর বিকেলে নিজ বাস ভবনের সামনে নির্বাচনী সভা করেন। পূর্ব নির্ধারিত সভায় বিপুল সংখ্য দলীয় নেতা-কর্মি ও অনুসারীরা উপস্থিত হয়ে নির্বাচনে তার পক্ষে শত বাধা উপেক্ষা করে অংশ নেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেণ। বিকেল ৪টায় সভা শুরু হওয়ার পরপরই লোক সমাগম বাড়তে থাকায় তা ছোট আকারে জনসভায় পরিণত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিমত। সভায় ওটরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাহাদত হোসেন, উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি অলিয়ার রহমান লিংকন, ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ যুবলীগ সভাপতি আকবর হোসেন ব্যাপারি, বিশিষ্ট ব্যাংকার ফারুক মোজাম্মেল হক, মশাং বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু হয়দার খান, হাবিবুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রিয় লাল ঘোষ উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। জানা গেছে এই প্রস্তুতি সভার মধ্য দিয়েই ইকবালের রাজনৈতিক প্রচারণা শুরু করলেন।

 

অপর একটি সূত্র জানায়- ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় অনেক নেতা কর্মিরা পুলিশি আতঙ্কে কেউ নীরব কেউবা দলীয় বাচ্চুর পিছু নিয়েছিল। গতকাল থেকে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। জানা গেছে কেন্দ্র থেকেই স্থানীয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার তাগিদ রেখে কোনোরূপ পক্ষপাতিত্ব বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে দেয় হয়েছে। হাই কমান্ড চায় সংঘাতবিহীন নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যেমে যেই জয় হোক না কেন তাকে মেনে নেয়া হবে। তবে দলীয় নেতাকর্মিরা অর্থাৎ ইকবাল অনুসারীরা চাচ্ছে অন্তত আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এ বিষয় পরিস্কার বক্তব্য রাখুক। হাসানাত ঘনিষ্ট সূত্রগুলো জানায়- সকলের নেতা হিসেবে তিনি কারো পক্ষ নিতে পারেছেন না, আবার কাউকে নির্বাচন থেকে সড়ে যাওয়ার অনুরোধ রাখতেও পারছেন না।

 

তারচেয়ে মূল্যায়ন করছেন উজিরপুরের সাংগঠনিক উজ্জত ধরে রাখতে করণীয় বিষয়াদী মাঠে প্রতিফলন ঘটাতে। সেক্ষেত্রে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোন বক্তব্য না রাখলেও জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে পরক্ষোভাবে নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তাছাড়া হাই কমান্ডও চাচ্ছে নির্বাচন প্রানবন্ত করতে স্বতন্ত্র দলীয় হলেও নির্বাচনে টিকে থাকুক। সার্বিক ইঙ্গিত পেয়ে ইকবালের ফুরফুরে মেজাজ দেখে নেতাকর্মিরাও উজ্জীবিত। ইকাবাল চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন সংঘাতবিহীন নির্বাচন করে বিজয়ের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র চলমান তার জবাব দিতে চান। পক্ষান্তরে বাচ্চুর অনুসারীরা ভাবনায় পরেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
মে ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« এপ্রিল    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
Website Design and Developed By Engineer BD Network