মায়ের মৃত্যুশোকে মারা গেলেন দুই মেয়ে


৯০ বছরের জরাগ্রস্ত পঞ্চমী বেওয়ার মৃত্যুশোক সইতে না পেয়ে মারা গেছেন তার দুই মেয়ে। পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের খলিফাপুর এলাকায় মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।

পঞ্চমী বেওয়ার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে মাকে শেষবারের মতো দেখতে আসেন তার ছয় মেয়ে। এরপর মায়ের মৃত্যুশোকে অচেতন হয়ে পড়ায় সন্ধ্যায় হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান পঞ্চমীর ছোট মেয়ে চৈতী রানী ও বড় মেয়ে স্বরজনি বালা।

পঞ্চমী বেওয়া ছয় মেয়ে ও দুই ছেলের মা ছিলেন। মারা যাওয়া বড় মেয়ে স্বরজনি বালা একই উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার সুশীল চন্দ্র রায়ের স্ত্রী ও ছোট মেয়ে চৈতী রানী ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ফারাবাড়ি এলাকার পলাশ চন্দ্র রায়ের স্ত্রী।

পঞ্চমী বেওয়ার পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাকারিয়া হাবিব বলেন, মঙ্গলবার সকালে পঞ্চমী বেওয়া মারা যাওয়ার পর তার ছয় মেয়েই স্বামীর বাড়ি থেকে মায়ের লাশ দেখতে আসেন। মেয়েরা দিনভর মায়ের জন্য আহাজারি করেন। বিকেলে পঞ্চমীর লাশ বাড়ির পাশের শ্মশানে সৎকার শেষ করে স্বামীর বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নেয়ার সময় বুকে ব্যথা অনুভব করে অচেতন হয়ে পড়েন ছোট মেয়ে চৈতী রানী।

এ সময় তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন স্বজনেরা। ওই মাইক্রোবাসে পঞ্চমীর বড় মেয়ে স্বরজনি বালাও যাচ্ছিলেন ছোট বোনকে চিকিৎসক দেখাতে। পথে স্বরজনি বালাও অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর হাসপাতালে নেয়ার পথে মাইক্রোবাসে দুই বোন মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রাকিবুল আলম বলেন, সন্ধ্যার পর ওই দুই বোনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাদের স্বজনদের ভাষ্য, ওই দুই নারী হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। মায়ের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে হার্টের সমস্যা থেকেই তারা মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]